সমুদ্রের অতলে অমর প্রাণী! - দৈনিক সত্য প্রকাশ

দৈনিক সত্য প্রকাশ

প্রতিদিনের বিভিন্ন সত্য খবর নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। বস্তুনিষ্ঠ খবর জানতে আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। -ধন্যবাদ।

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

সমুদ্রের অতলে অমর প্রাণী!

 

সমুদ্রের অতলে অমর প্রাণী! 

বিজ্ঞানের এক অবিশ্বাস্য আবিষ্কার!!

আমরা সবাই জানি জন্মিলে মরিতে হবে—এটাই প্রকৃতির চিরন্তন নিয়ম। কিন্তু যদি শোনেন এই পৃথিবীতেই এমন এক জীব আছে, যার স্বাভাবিক কোনো মৃত্যু নেই? যে চাইলেই নিজের বয়স কমিয়ে আবার শিশু হয়ে যেতে পারে!

বিজ্ঞান কল্পকাহিনী মনে হলেও, এটি শতভাগ সত্যি। গভীর সাগরের তলদেশে বাস করা এই বিশেষ প্রাণীটির নাম টারিটোপসিস ডোরনি (Turritopsis dohrnii), যা সাধারণ মানুষের কাছে অমর জেলিফিশ নামে পরিচিত।

কিভাবে সে অমরত্ব অর্জন করে?

সাধারণত জেলিফিশের জীবনচক্র শুরু হয় পলিপ নামক এক ক্ষুদ্র অবস্থা থেকে। ধীরে ধীরে তারা পূর্ণাঙ্গ জেলিফিশ বা মেডুসাতে রূপান্তরিত হয়। অন্যসব জেলিফিশ বয়সের ভারে বা শারীরিক অসুস্থতায় একসময় মারা যায়।

কিন্তু টারিটোপসিস ডোরনি যখন দেখে সে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে, বা খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে কিংবা শরীর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে—তখন সে এক জাদুকরী প্রক্রিয়া শুরু করে!

১. সে তার শরীরের কোষগুলোকে রূপান্তর করতে শুরু করে (এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সডিফারেনসিয়েশন)। ২. তার শরীর ছোট হতে হতে আবার একদম শুরুর সেই পলিপ বা শিশুকালীন অবস্থায় ফিরে যায়। ৩. সেখান থেকে সে নতুন করে আবার তার জীবন শুরু করে!

সহজ কথায় বললে, একজন ৮০ বছরের বৃদ্ধ মানুষ যদি কোনো ওষুধ খেয়ে আবার ৫ বছরের শিশু হয়ে যায় এবং নতুন করে জীবন শুরু করে—ব্যাপারটি ঠিক তেমনই!

এটি কি আসলেই কখনো মরে না?

প্রকৃতিতে এদের স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত মৃত্যু নেই। তবে তার মানে এই নয় যে এরা একেবারে অবিনশ্বর। কোনো বড় সামুদ্রিক মাছ যদি এদের গিলে ফেলে, কিংবা কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ হয়, তবে এরা মারা যেতে পারে। কিন্তু অসুস্থতা বা বয়সের কারণে এরা কখনোই মরে না।

কেন বিজ্ঞানীদের চোখ এদের ওপর?

বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এই খুদে জেলিফিশটিকে নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য:

ক্যান্সার চিকিৎসা: কীভাবে একটি কোষ নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে অন্য কোষে রূপান্তর করতে পারে, তা থেকে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের নতুন ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে।

বার্ধক্য প্রতিরোধ: মানবদেহের টিস্যু বা অঙ্গ পুনর্গঠন এবং মানুষের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করার গবেষণায় এই জেলিফিশের জিনোম সিকোয়েন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই পৃথিবীর রহস্যের শেষ নেই। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার হয়তো ভবিষ্যতে মানবজাতির আয়ু বৃদ্ধিতে বা জটিল রোগ নিরাময়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে!

আরো দেখুনঃ

জলাশয় শুকানোর পর সেখানে পুনরায় মাছ আসে কিভাবে??

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages