মুখের ভেতর সাদা ঘা হওয়ার কারণ কী জেনে নিন প্রতিকার - দৈনিক সত্য প্রকাশ

দৈনিক সত্য প্রকাশ

প্রতিদিনের বিভিন্ন সত্য খবর নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। বস্তুনিষ্ঠ খবর জানতে আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। -ধন্যবাদ।

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মুখের ভেতর সাদা ঘা হওয়ার কারণ কী জেনে নিন প্রতিকার

 


মুখের ভেতর সাদা ঘা হওয়ার কারণ কী জেনে নিন প্রতিকার

মুখে সাদা ঘা বা অ্যাপথাস আলসার: কারণ ও প্রতিকার

আমাদের অনেকেরই হঠাৎ করে মুখের ভেতর, জিভে বা ঠোঁটের ভেতরের অংশে ছোট সাদাটে ঘা দেখা দেয়। খাবার খেতে গেলে বা কথা বলতে গেলে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে অ্যাপথাস আলসার (Aphthous Ulcer) বলা হয়। সাধারণত এটি মারাত্মক কিছু না হলেও বেশ যন্ত্রণাদায়ক।

কেন হয় এই মুখে ঘা?

মুখে ঘা হওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট একটি কারণ না থাকলেও সাধারণত নিচের বিষয়গুলো দায়ী থাকে:

 * পুষ্টির অভাব: শরীরে ভিটামিন B12, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন বা জিঙ্কের অভাব থাকলে বারবার ঘা হতে পারে।

 * অসাবধানতা: ব্রাশ করার সময় বা খাবার চিবানোর সময় ভুলবশত গাল বা ঠোঁটে কামড় লাগলে।

 * মানসিক চাপ ও ক্লান্তি: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়, যা থেকে ঘা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

 * হজমজনিত সমস্যা: কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের দীর্ঘস্থায়ী কোনো অসুখ থাকলে মুখে ঘা হতে পারে।

 * অ্যালার্জি: টুথপেস্টে থাকা নির্দিষ্ট কেমিক্যাল (যেমন SLS) বা অতিরিক্ত টক ও ঝাল খাবারের রিঅ্যাকশন থেকেও এমনটা হয়।

ঘরে বসে প্রতিকার

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ঘা ঘরোয়া কিছু নিয়ম মেনে চললে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়:

 * লবণ-জল দিয়ে কুলি: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার কুলি করুন। এটি জীবাণু ধ্বংস করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

 * মধু ব্যবহার: ঘায়ের জায়গায় সামান্য মধু লাগিয়ে রাখতে পারেন। মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান দ্রুত ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে।

 * খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: ঘা না শুকানো পর্যন্ত অতিরিক্ত ঝাল, মশলাযুক্ত বা সাইট্রাস (লেবু, কমলা) জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

 * নারকেল তেল: প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া কমাতে ঘায়ের স্থানে সামান্য নারকেল তেল দেওয়া যেতে পারে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

যদিও এই ঘা নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই একজন ডেন্টিস্ট বা এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে:

 * যদি ঘা ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়।

 * যদি ঘায়ের আকার অনেক বড় হয় বা সারা মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

 * যদি ঘায়ের পাশাপাশি প্রচণ্ড জ্বর থাকে।

 * যদি ব্যথার কারণে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শেষ কথা: মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে নিয়মিত দুই বেলা ব্রাশ করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। সুস্থ থাকুন, সুন্দর হাসুন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages