রমজান কবে? সৌদি আরব ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক!
রমজান কবে? সৌদি আরব ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক!
পবিত্র মাহে রমজান সমাগত। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে এক বিশাল ধোঁয়াশা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে সৌদি আরবের দাপ্তরিক ক্যালেন্ডার, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক তথ্য—দুই পক্ষের অবস্থানে এখন তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অমিল।
সৌদি আরবের অবস্থান: বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজান?
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ক্যালেন্ডার ‘উম্ম আল-কুরা’ অনুযায়ী, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রমজানের প্রথম দিন। সাধারণত সৌদি সরকার তাদের এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ীই চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে অভিযোগ উঠেছে যে, আকাশ পরিষ্কার থাকুক বা না থাকুক, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যালেন্ডারের তারিখ মেলাতে চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দাবি: মঙ্গলবার চাঁদ দেখা ‘অসম্ভব’
সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং আবুধাবিভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে:
* শারজাহ অ্যাকাডেমি (SAASST): বৈজ্ঞানিকভাবে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।
* আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র: কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ ওদেহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওইদিন যদি কেউ চাঁদ দেখার দাবি করেন, তবে সেটি হবে একটি "ভুল পর্যবেক্ষণ"।
* বিশ্বজুড়ে একই চিত্র: যুক্তরাজ্যের নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতে, ১৭ ফেব্রুয়ারি এশিয়া, আফ্রিকা বা ইউরোপের কোথাও চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।
সৌদি বনাম আমিরাত: তৈরি হতে পারে কূটনৈতিক টানাপোড়েন
সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সৌদি আরবকে অনুসরণ করেই রোজা ও ঈদ পালন করে। কিন্তু এবার ওমান এবং আমিরাতের জ্যোতির্বিদরা যেভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন, তাতে প্রশ্ন উঠেছে—আমিরাত কি এবার সৌদির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে?
যদি ওমান বা আমিরাত সৌদির একদিন পর রোজা শুরু করে, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে রমজান শুরুর তারিখে একটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।
বিগত বছরের বিতর্ক ও ‘মিডল ইস্ট আই’-এর প্রতিবেদন
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, গত কয়েক বছর ধরে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখার ব্যাপারে ‘ভুল’ বা ‘মিথ্যা’ তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সৌদি আরব জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বৈজ্ঞানিক তথ্যকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র তাদের নির্ধারিত ক্যালেন্ডার বজায় রাখতে চাইছে।
চাঁদ দেখা যাওয়া না যাওয়ার এই লড়াই এখন বিজ্ঞান বনাম ঐতিহ্যের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কি সৌদি আরব তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুধবারই রমজান ঘোষণা করবে? নাকি আমিরাত ও ওমান বিজ্ঞানের পথে হেঁটে ভিন্ন দিনে রোজা শুরু করবে? তা জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত।
