দান-সদকার গুরুত্ব: সাহাবীগণের আদর্শ ও কুরআনের শিক্ষা
দান-সদকার গুরুত্ব: সাহাবীগণের আদর্শ ও কুরআনের শিক্ষা
পবিত্র রমজান মাস কেবল আত্মশুদ্ধির মাস নয়, বরং এটি সহমর্মিতা ও উদারতা প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ সময়। এ মাসে একটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান এবং ফরজের সওয়াবকে সত্তর গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো দান-সদকা।
১. দানশীলতায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন জগতের শ্রেষ্ঠ দাতা। কিন্তু রমজান এলে তাঁর উদারতা সব সীমা ছাড়িয়ে যেত।
> عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ»
> (সহিহ বুখারি: ০৬)
> অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত।
>
২. কেন আমরা রমজানে দান করব? (কুরআনের দলিল)
দান করলে সম্পদ কমে না, বরং তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
> مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ
> (সূরা বাকারা: ২৬১)
> অর্থ: যারা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায় এবং প্রতিটি শীষে থাকে ১০০টি দানা।
>
দান আমাদের পাপের আগুন নিভিয়ে দেয়:
> «وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ»
> (তিরমিজি: ৬১৪)
> অর্থ: দান-সদকা গুনাহকে নিভিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।
>
৩. সাহাবীদের দানের অভূতপূর্ব কিছু ঘটনা
সাহাবীগণ ছিলেন ত্যাগের মূর্ত প্রতীক। তাদের দান ছিল নিঃস্বার্থ:
* আবু বকর (রা.): তাবুক যুদ্ধের সময় নিজের ঘরের স্থাবর-অস্থাবর সব মালামাল নিয়ে এসেছিলেন। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, "পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?" তিনি জবাব দিলেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি।" (আবু দাউদ: ১৬৭৮)
* উসমান (রা.): যুদ্ধের প্রস্তুতিতে একাই ১০০০ উট ও ১০০০ স্বর্ণমুদ্রা দান করেছিলেন। তাঁর দানে সন্তুষ্ট হয়ে রাসূল (সা.) তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন।
* আবু তালহা (রা.): তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ 'বাইরুহা' বাগানটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন যখন আয়াত নাজিল হলো— "তোমরা প্রিয় বস্তু দান না করা পর্যন্ত পুণ্য পাবে না।" (বুখারি: ১৪৬১)
৪. রমজানে আমাদের করণীয়
* রোজাদারকে ইফতার করানো: একটি খেজুর বা এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও কাউকে ইফতার করান। এতে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। (তিরমিজি: ৮০৭)
* যাকাত ও ফিতরা আদায়: রমজান মাসকে যাকাত আদায়ের সময় হিসেবে নির্ধারণ করুন যাতে অভাবীরা ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে।
* গোপনে দান: প্রচারের চেয়ে গোপনে দান করা আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। এটি আল্লাহর ক্রোধ নিভিয়ে দেয়।
রমজান আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আসুন, এই পবিত্র মাসে আমাদের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ এতিম, বিধবা ও অভাবী মানুষের জন্য ব্যয় করি। মনে রাখবেন, "সদকা করলে সম্পদ কমে না।" (মুসলিম: ২৫৮৮)।
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফা’ফু আন্নি।
(হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।)
লিখেছেন: শাফিন আহমেদ
তারিখ: ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং
.jpeg)