জুমার দিনের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ফজিলত - দৈনিক সত্য প্রকাশ

দৈনিক সত্য প্রকাশ

প্রতিদিনের বিভিন্ন সত্য খবর নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। বস্তুনিষ্ঠ খবর জানতে আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। -ধন্যবাদ।

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

জুমার দিনের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ফজিলত



জুমার দিনের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ফজিলত

ইসলামে সপ্তাহের সেরা এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো শুক্রবার বা ইয়াওমুল জুমুআ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জুমার সালাতের জন্য বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেছেন। নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিনকে ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আজকের লেখায় আমরা জানবো জুমার দিনের বিশেষ কিছু সুন্নত আমল এবং এর অশেষ ফজিলত সম্পর্কে।

জুমার দিনের বিশেষ ৮টি সুন্নত আমল

নবীজি (সা.) জুমার দিনে বিশেষ কিছু আমল পালন করতেন এবং সাহাবিদেরও তা করার নির্দেশ দিতেন। আমলগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. গোসল করা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া

জুমার দিনের অন্যতম প্রধান সুন্নাত হলো ভালোভাবে গোসল করা। শরীরের অতিরিক্ত লোম ছাঁটা, নখ কাটা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা এই দিনের বিশেষ আদব।

২. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা

জুমার নামাজে যাওয়ার আগে পুরুষদের জন্য সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা সুন্নত। এতে সহপাঠী ও মুসল্লিদের মাঝে সুবাতাস ছড়ায় এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়।

৩. জুমার নামাজে দ্রুত মসজিদে যাওয়া

যে ব্যক্তি জুমার দিনে যত তাড়াতাড়ি মসজিদে প্রবেশ করে, সে তত বেশি সওয়াবের অধিকারী হয়। হাদিসে এসেছে, জুমার দিন প্রথম প্রহরে মসজিদে প্রবেশকারী একটি উট কোরবানির সমপরিমাণ সওয়াব পায়।

৪. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া

সম্ভব হলে যানবাহনে না চড়ে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন যে ব্যক্তি হেটে মসজিদে যায়, তার প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব লেখা হয়।

৫. সুরা কাহফ (Surah Al-Kahf) তেলাওয়াত করা

জুমার দিনে সুরা কাহফ তেলাওয়াত করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বিশেষ নূর বা আলো দান করা হয় এবং সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে হেফাজতে থাকে।

৬. নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ

জুমার দিন ও জুমার রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা উত্তম। নবীজি (সা.) বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনটি সর্বোত্তম, তাই এই দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়ো।”

৭. জুমার দিনে দোয়ার বিশেষ মুহূর্ত খুঁজে নেওয়া

জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো বৈধ দোয়া করলে আল্লাহ তা ফেরত দেন না। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই সময়টি হলো **আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত।

৮. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা

ইমাম যখন খুতবা দেবেন, তখন একদম চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে তা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কথা বলা, মোবাইল চালানো বা অন্যকে চুপ করতে বলাও খুতবার সওয়াব নষ্ট করে দেয়।

জুমার দিনের বিশেষ ফজিলত

 *গুনাহ মাফের মাধ্যম: এক জুমা থেকে অপর জুমাহর মধ্যবর্তী সময়ে বান্দার ছোটখাটো কবিরা ছাড়া অন্য সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

 *শ্রেষ্ঠ দিন: আদম (আ.)-কে এই দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল।

 *কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার দিন: ভবিষ্যতেও জুমার দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে।

শেষ কথা

জুমার দিন কেবল একটি ছুটির দিন নয়, বরং আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের এক মহা সুযোগ। আসুন, আমরা কেবল সামাজিক রুটিন হিসেবে না দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতগুলো অনুসরণের নিয়তে জুমার দিনটিকে যথাযথ মর্যাদা দেই।

লেখাটি ভালো লাগলে আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করে দ্বীনি দাওয়াতে অংশ নিন!


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages