ভাগওয়া লাভট্রাপ কী? ইসকনের পরিচয়, হিন্দুত্ববাদীদের ভয়াল আগ্রাসন মুসলমানদের করণীয়
### ভূমিকা:-
ইসলাম ধর্ম আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে শাশ্বত জীবনব্যবস্থা। যার মাঝে নিহিত রয়েছে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ ও শান্তি এবং মুক্তি। বাবা সায়্যিদুনা হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন) প্রেরিত হওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে “দ্বীনে হানীফ” তথা সরল ধর্ম ইসলামের বাণী মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছেছে, যা পূর্ণতা লাভ করেছে সায়্যিদুনা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর মাধ্যমে এবং বিশ্বের বুকে ইসলামই একমাত্র সত্য ও গ্রহণযোগ্য দ্বীন-ধর্ম হিসেবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন-
> ﴿إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ﴾
> অর্থ: ‘নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহ তাআলার কাছে একমাত্র মনোনীত ও গ্রহণযোগ্য ধর্ম।’ (সূরা আল-ইমরান : ১৯)।
>
বিধর্মীয় সংস্কৃতি পরিহার এবং ইসলামের সুমহান বাণী সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে নবী-রাসূলগণ (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন) বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করেছেন। মহান রবের অপার কৃপায় সমাজের মাঝে ইসলামকে একটি কুসংস্কারমুক্ত ও শান্তিপ্ৰিয় ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা সক্ষম হয়েছেন। তবে অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বর্তমান সময়ে বিজাতীয় উৎসবে বিধর্মীদের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর একাংশ কর্তৃক বিভিন্নভাবে উদযাপনের চিত্র পরিলক্ষিত হয়। বিশেষভাবে মুসলিম যুব সমাজের মাঝে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। এবং মুসলিম নারীরা হিন্দু ছেলেদের প্রতি ধাবিত হয়ে যাচ্ছে। তাদের মিষ্টি কথায় আকর্ষিত হয়ে ধর্মান্তরিত হচ্ছে। আজকে আমরা বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসন ও মুসলিম উম্মাহর জন্য করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।
### বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদীদের ভয়াল আগ্রাসন
মুহতারাম হাজিরীন! বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার ৫৪ বছর পূর্ণ হয়েছে, স্বাধীনতার পূর্ব থেকে এখন পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমগণ সংখ্যালঘু হিন্দুদের সাথে খুবই সুনামের সাথে ইসলামের শিক্ষাকে সামনে রেখে নিরাপদ সহাবস্থানে চলে আসছে। একসাথে ব্যবসা করছে, হাটঘাটে, মাঠে পরস্পর সুহৃদ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, মুসলিম জনগণ হিন্দু জনগোষ্ঠীর যত মন যুগিয়ে চলছে, হিন্দুগোষ্ঠীর বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ, মুসলিমদের বিপক্ষে তাদের জোরালো অবস্থান ততবেশি সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে। অবশেষে আল্লাহ তাআলার কথাই আমাদের জন্য সত্য প্রমাণিত হল, মহান রব্বুল আলামীন সূরা মায়িদার ৮২ নং আয়াতে বলেন-
> ﴿لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا﴾
> অর্থ: হে নবী! আপনি মুসলমানদের প্রতি কঠোরভাবে শত্রুতা পোষণকারী হিসাবে ইহুদী এবং মুশরিকদেরকেই (হিন্দু) পাবেন।
> ইতিহাস সাক্ষী, ইসলামের শুরুকাল থেকে যুগে যুগে মুশরিকরা ইসলাম এবং মুসলমানদের বিপক্ষেই ছিল।
>
### ছোট্ট কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরছি-
* **নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানার ঘটনা।**
মক্কার মুশরিকদের সর্বাত্মক জুলুমে যখন মুসলিমদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন বহু মুসলিম হাবশায় হিজরত করে চলে যায় এবং বাদশাহ নাজাশীর আশ্রয় গ্রহণ করে। নাজাশী তো বটেই, হাবশার জনগণও তখন তাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করেছিল। মক্কার মুশরিকগণ নাজাশীর কাছে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিল, তিনি যেন তাঁর দেশ থেকে মুসলিম শরণার্থীদেরকে বের করে দেন ও
তাদেরকে মক্কা মুকাররমায় ফেরত পাঠান, যাতে মুশরিকগণ তাদের উপর আরও নির্যাতন চালাতে পারে। নাজাশী তখন মুসলিমদেরকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনলেন। তাতে তাঁর কাছে ইসলামের সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে তিনি যে মুশরিকদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তাই নয়; বরং তারা যে উপহার-উপঢৌকন পেশ করেছিল, তাও ফেরত দিলেন। (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন: সূরা মায়িদা- আয়াত নং ৮২)
লক্ষ্য করুন! এই মূর্তিপূজক মুশরিকরা মুসলমানগণের সাথে কী পরিমাণ বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করত। নিজ দেশে নির্যাতন করে ক্ষান্ত হয়নি। বিদেশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী মুসলমানদের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালানোর জন্যও পায়তারা করেছে।
### বাংলাদেশে হিন্দুদের বেপরোয়া উগ্রবাদের কয়েকটি উদাহরণ
♦ফরিদপুরের মধুখালিতে হিন্দুকর্তৃক বর্বরচিত হত্যাকাণ্ড♦
হিন্দুরা বাংলাদেশ মায়ের কোলের সন্তানের মত নিরাপদে বসবাস করা সত্ত্বেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র থেমে নেই। মুসলিমরা শান্তিপ্ৰিয় তাই কখনও উগ্রপন্থা অবলম্বন করে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হিন্দুরা দিনাদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এর জলজ্যান্ত প্রমাণ হল, ফরিদপুরের মধুখালিতে সন্ত্রাসী হিন্দুদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৪, রোজ বৃহস্পতিবার। ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার পঞ্চপল্লী গ্রামের একটি মন্দিরে ৭ জন যুবককে ধরে আনা হয়। অতঃপর তাদের লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু হয়। কেউ কেউ ছুরিকাঘাতও করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বেদম প্রহারের ফলে দুই যুবক নিহত হয়। এদের নাম যথাক্রমে ২১ বছরের আশরাফুল হক এবং ১৫ বছরের আরশাদুল হক। এই দুই যুবকই পবিত্র কোরআনের হাফেজ ছিল। অবশিষ্ট ৫ জন পাশবিক প্রহারের ফলে জ্ঞান হারায়। তাদের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত অন্যদের স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফরিদপুরের ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জেলার উগ্র হিন্দুরা উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মোহন্ত ফেসবুকে পোস্ট করেছে-
‘ফরিদপুরে ৪টা মোল্লা খতম, সামনে আরও অনেক কিছু হতে চলেছে, সনাতনিরা রেডি হও! প্রস্তুতি ফরিদপুর দিয়ে শুরু, জয় শ্রী রাম।’
দেখুন অপরাধ করেও তাদের কত দুঃসাহস!! অবশ্য পরবর্তীতে তাকে আইনের আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। আইনের আশ্রয়ে নেওয়া হলেও মনে রাখবেন এটাই বাংলাদেশের হিন্দুদের ভাষা ও মনোভাবনা।
*বাংলাদেশে প্রশাসন সহ সরকারী চাকুরিতে হিন্দুদের সয়লাব**
আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, ২০২২ ইং সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭.৯৫ পার্সেন্ট হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অথচ বাংলাদেশ পুলিশ, আর্মি সহ সরকারী চাকুরীতে তাদের সংখ্যা হল শতকরা ৩৫ পার্সেন্ট।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি সেক্টরে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের শীর্ষ তালিকা অন্যায়ভাবে দখল করে বসে আছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, এমনও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে ইসলাম শিক্ষার সাবজেক্টগুলো মুসলিম টিচারের অভাবে হিন্দু টিচাররা পাঠদান করে।
মুসলমানদের টাকায় প্রতিষ্ঠিত ও পারিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্ররা ইফতার মাহফিল বা কোনো ধর্মীয় আমল করতে চাইলে সাম্প্রদায়িকতার দোহায় দিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ একই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীবা তাদের বিভিন্ন পূজায় তরবারি হাতে নিয়ে সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে কিন্তু তাদেরকে বাঁধা দেওয়া হয় না।
সরকার এবং প্রশাসনের কিছু কিছু ব্যবহারের মাঝে মধ্যে মনে হয়, “আমরা কি তাহলে ভারতের কোন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছি?”
### ইসকনের পরিচয় ও তাদের তৎপরতা
ইসকন একটি কট্টর হিন্দুত্ববাদী, উগ্র সংগঠনের নাম। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী জানা যায়, ইসকনের ফুল মিনিং হল, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ। যার জন্ম বা সৃষ্টি বিদেশে। এমনকি ভারতেও নয়। ১৩ জুলাই ১৯৬৬ সালে নিউ ইয়র্ক সিটিতে অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্ৰভুপাদ “ইসকন” নামের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংগঠনটি নানানভাবে বিতর্কিত হয়। এই সংগঠনটি মূলত ভারতে মুসলিম নিধনের অন্যতম সন্ত্রাসী সংগঠন আর এস এস এর আদলে বাংলাদেশ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মন্দির স্থাপন করে আস্তানা গেড়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সারা পৃথিবীতে তাদের আট শতাধিক প্রধান মন্দির রয়েছে। যে গুলো থেকে তাদের উগ্রবাদী মিশন পরিচালিত হয়।
### যে সকল দেশে ইসকন নিষিদ্ধ
ইসকন প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকেই এই সংগঠনের নেতারা নানান কুকর্মে জড়িয়ে পড়ে। যার মধ্যে ধর্ষণ, শিশু বলাৎকার সহ যৌন হয়রানির অন্যতম অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ফলে চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, আরবদেশগুলো সহ পৃথিবীর অনেক সভ্যদেশে এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
ইসকনের অপতৎপরতা ও মুসলিম বিদ্বেষী পাশাপাশি বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্পত্তিতে তাদের আঘাত হানার চিত্র ফুটে উঠেছে। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার ২৭/১১/২০২৪ ইং রোজ: বুধবারের একটি রিপোর্টে এই সমস্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।
### ইসকন একটি উগ্রবাদী সংগঠন
ইসকনকে ‘উগ্রবাদী, প্রকৃত অর্থেই ধর্মবিরোধী ও পেশীশক্তি প্রদর্শনকারী’ বলছে স্বয়ং হিন্দুদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান “প্রবর্তক সংঘ”
ইতিপূর্বে চট্টগ্রামে ইসকন নেতা-কর্মীরা সদলবলে স্কুলে স্কুলে 'খাবার বিতরণের' আড়ালে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের 'হরে কৃষ্ণ হরে রাম' মন্ত্র পড়তে অপকৌশলে একরকম বাধ্য করে চরম সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়ে উগ্র সংগঠনটি। এজন্য ইসকন নেতারা ক্ষমা চান প্রকাশ্যে। তবুও এদের আচরণে পরিবর্তন আসেনি। একের পর এক চরম বিতর্কিত ও উগ্রবাদী ঘটনায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, বাংলাদেশে কী চায় এই ইসকন?
ইসকন এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকন (ISKCON) ‘ধর্মীয় উদ্দেশ্য নিয়ে জনসেবা, শিক্ষা, ধর্মচর্চা, আধ্যাত্মিক চর্চা' করবে। অথচ বাস্তবে কী করছে ওরা?
প্রবর্তক সংঘের নেতারা সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, সাধুর ছদ্মবেশে একদল সন্ত্রাসী প্রবর্তক শ্রী শ্রী কৃষ্ণ মন্দিরে অবস্থান করছে। ইসকনের পুরোহিতদের কাজ পূজা, আর্চনা করা। কিন্তু ইসকনের সদস্যরা সংঘের ভূমি দখলসহ নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত।
### ‘উগ্রপন্থী হিন্দু সংগঠন ইসকন বাংলাদেশে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরী করছে’
ইসকন সংগঠনটি উগ্র ধরনের সংগঠন। বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করে, সেটা ভাঙ্গার জন্য বার বার চেষ্টা করে এই সংগঠনটি। যেহেতু পার্শ্ববর্তী ভারতে উগ্র হিন্দুরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নির্যাতন করছে, সেহেতু বাংলাদেশে সেই সাম্প্রদায়িকতার উল্টা রেশ আনার জন্য প্রয়োজন এ অঞ্চলে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন কাজে ইন্ধন দেয়া, যেন মুসলমানরা সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ক্ষেপে যায়। এ কাজটি বিভিন্ন সময় রুটিনওয়ার্ক হিসেবে দিয়ে থাকে ইসকন। যেমন-
১) ২০১৪ সালে স্বামীবাগে তারাবীর নামাজে বাধা দেয় ইসকন। সে সময় হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। পুরো দেশে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি বিরাজ করে।
২) ২০১৬ সালে সিলেটে ইসকন মন্দির থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদের মুসল্লীদের উপর গুলি বর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইসকনীদের হামলায় ডজনখানেক মুসল্লী গুরুতর আহত হয়।
৩) ইসকনের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়ায় ২০১৬ সালে খুন হয় সিলেটের এক মসজিদের ইমাম।
##**সাম্প্রতিককালে ইসকন কর্তৃক মুফতী মুহিব্বুল্লাহ সাহেবকে গুম করার ঘটনা।**
বাংলাদেশে ভারতের পরোক্ষ মদদে এবং বিগত স্বৈরশাসকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইসকন তাদের শিকড় মজবুতভাবে গেড়েছে। ইসকনের অপতৎপরতা সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করা এ দেশের আপামর জনতার অভিভাবক উলামায়ে কিরাম ও মসজিদের ইমাম-খতীবগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
কিন্তু উলামায়ে কিরাম ও ইমাম-খতীবগণ দায়িত্ব পালনের পরপরই দেখা যায়, উগ্রবাদী এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির লোকেরা নানান হুমকি দিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের টঙ্গী ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি কলোনি জামে মসজিদের খতীব মুফতী মুহিব্বুল্লাহ মাদানী ইসকন সম্পর্কে এবং তাদের অপতৎপরতা নিয়ে মুসল্লীদের সতর্ক করার পর ইসকনের লোকেরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
টিএনটি কলোনি মসজিদের বারান্দায় ইসকনের নামে একটি হুমকিমূলক চিঠি পাওয়া যায়। একই ধরনের আরেকটি চিঠি খতীব সাহেবের বাসার কাছেও পাওয়া যায়। চিঠিতে পাঞ্জাবি-টুপি পরা এক হুজুরের প্রতিকৃতি এঁকে তার গলায় ছুরি ধরে লেখা ছিল—
> “তোদের খতীবকে ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। শেষ অবধি ওকে সম্পূর্ণ একা বানিয়ে রাস্তার পাগল বানানো হবে। কারণ যোনি দেবী জগৎজয়ী কালী মাতা কাম দেবতার উপরে কেউ নেই। আজ হোক বা কাল হোক, পূর্ববাংলা ইসলামী মৌলবাদীদের মুক্ত করা হবে। আমাদের জনবলের সংকট নেই। তোদের বায়তুল মোকাররমকেও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এখন আর কথা নয়, আমরা অ্যাকশনে যাবো।”
>
ইসকনের এই হুমকির পর নিখোঁজ হন গাজীপুরের টিএনটি কলোনি জামে মসজিদের খতীব মুফতী মুহিব্বুল্লাহ মাদানী। গতকাল ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ইং, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় সদর থানার হেলিপ্যাড বাজার এলাকার একটি রাস্তার পাশে গাছের সাথে লোহার শিকল দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, “মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ মাদানীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” এর আগে বুধবার ফজর নামাজের পর হাঁটতে বের হলে তিনি অপহরণের শিকার হন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রিয় উপস্থিতি! ইসকনের এই হুমকি ও খতীব সাহেবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এবং এতে ইসকনের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট। মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ সম্প্রতি “ইসকন ও ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ” বিষয়ে বক্তব্য দেন, যার পর থেকেই তাকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুরে হিন্দু যুবক কর্তৃক মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের বিচার দাবি করে আসা মাওলানা আতাউল্লাহ বিক্রমপুরীকেও ইসকন কর্তৃক হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
##**ড আরেকটি ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম হল “ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ”**
সাম্প্রতিক সময়ে “ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ” নামে হিন্দুরা পেতেছে নতুন ষড়যন্ত্র। যা মূলত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন ও তাদের সহযোগী কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত একটি প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য, মুসলিম সমাজের তরুণীদেরকে নৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে বিপথগামী করে ইসলামী সমাজের ভিত দুর্বল করে দেওয়া।
**“ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ” কী?**
“ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ” একটি সংগঠিত চক্রান্ত, যেখানে হিন্দু যুবকরা ধর্মীয় পোশাক বা সাধুসুলভ আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে মুসলিম তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে, পরে তাদের ধর্মান্তরিত করতে চেষ্টা করে।
“ভাগওয়া” অর্থাৎ গেরুয়া পোশাক, যা হিন্দু সন্ন্যাসী বা ইসকন সদস্যরা ব্যবহার করে; আর “লাভ ট্র্যাপ” মানে প্রেমের ফাঁদ। অর্থাৎ “ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ” হচ্ছে এমন এক ফাঁদ, যেখানে ধর্মীয় ছদ্মবেশে মুসলিম মেয়েদের প্রেম ও বিবাহের প্রতারণামূলক পথে ধর্ম পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
#### **এ প্রতারণার ধাপসমূহ**
এই ষড়যন্ত্র সাধারণত ধাপে ধাপে পরিচালিত হয়ে থাকে।
* **ধর্মীয় ভাবমূর্তি তৈরি:** ইসকন বা হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা গেরুয়া পোশাক, তিলক, মালা ও মৃদু ভাষার মাধ্যমে “আধ্যাত্মিক মানুষ” হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করে।
* **বিশ্বাস অর্জন:** তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বা সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলিম তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
* **প্রেমের ফাঁদ:** ধীরে ধীরে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে ‘আন্তঃধর্মীয় সহনশীলতা’ ও ‘সব ধর্ম এক’ এমন ধারণা ছড়িয়ে দেয়।
* **ধর্মান্তর প্ররোচনা:** শেষপর্যায়ে মেয়েটিকে হিন্দু ধর্ম বা ইসকনের দর্শন গ্রহণে প্ররোচিত করে, অনেক সময় বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মান্তর সম্পন্ন করে ফেলে।
* **পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা:** সম্পর্ক বা বিবাহের পর মেয়েটিকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, যেন সে ইসলামে ফিরে যেতে না পারে।
#### **মুসলিম সমাজের করণীয়**
১. **আকীদার দৃঢ়তা:** তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ঈমান ও ইসলামী জ্ঞান বৃদ্ধি করতে হবে।
২. **পরিবারে নজরদারি:** সন্তানদের অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি।
৩. **মসজিদ ও মাদ্রাসা-কেন্দ্রিক সচেতনতা:** খতীব ও উলামায়ে কিরামকে এ বিষয়ে মুসল্লীদের সতর্ক করতে হবে।
৪. **আইনি পদক্ষেপ:** ইসকন বা অন্য কোনো সংগঠন যদি ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক নিরাপত্তায় আঘাত হানে, তাহলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. **মিডিয়া সচেতনতা:** মিডিয়ায় হিন্দুত্ববাদীদের এই অপতৎপরতা সম্পর্কে ব্যাপকভাবে জনমত গড়ে তুলতে হবে। যেন সবাই এদের থেকে সতর্ক হয়ে যায়।
মোটকথা, “ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ” কেবল প্রেমের নামে প্রতারণা নয়, এটি মুসলিম সমাজের ঈমান, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। তাই প্রয়োজন সতর্কতা, ঐক্য ও আল্লাহভীতির সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা। উলামায়ে কিরাম, ইমাম-খতীব, অভিভাবক ও তরুণ প্রজন্ম সবাইকে এই অপসংস্কৃতি ও ধর্মবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, যেন আমাদের সমাজ ইসকন ও হিন্দুত্ববাদীদের এই এই ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে পারে।
#### **ইসকনকে নিষিদ্ধ করা সময়ের অন্যতম দাবি**
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, এখানে হিন্দু-মুসলিম একত্রে শান্তিতে বাস করে, কিন্তু ইসকন নামক উড়ে এসে জুড়ে বসা সংগঠনটি সেই সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করে মুসলিম-হিন্দুর মধ্যে বড় ধরনের দাঙ্গা বাধাতে চায়, যার পরবর্তী সুবিধা নিবে ভারতের উগ্র বিজেপি ও রামভক্তরা এবং বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত পলাতক স্বৈরশাসক।
আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে দাঙ্গা হলে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দুরা। তাই ভবিষ্যতে হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের স্বার্থেই বাংলাদেশে ইসকন নামক ভূঁইফোঁড় সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা অপরিহার্য।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন