জুমআর খুতবা/বয়ানঃ ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার গুরুত্ব ও ফজিলত। - দৈনিক সত্য প্রকাশ

দৈনিক সত্য প্রকাশ

প্রতিদিনের বিভিন্ন সত্য খবর নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। বস্তুনিষ্ঠ খবর জানতে আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। -ধন্যবাদ।

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

জুমআর খুতবা/বয়ানঃ ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার গুরুত্ব ও ফজিলত।

 ‎আলোচ্য বিষয়: ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার গুরুত্ব ও ফজিলত।

‎اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الْأكْرَم - اَلَّذِيْ خَلَقَ الْإِنْسَانَ وَكَرَّم، وَعَلَّمَهُ مِنَ  الْبَيَانِ مَالَمْ يَعْلَمْ، فَسُبْحَانَ الَّذِيْ لَا يُحْصٰى  اِمْتِنَانُهُ بِاللِّسَانِ  وَلاَ بِالْقَلَم                                                    

‎      اما بعد: فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم؛

‎                           : بسم الله الرحمن الرحيم 

‎اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِیْ خَلَقَ، خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَق ، اِقْرَاْ وَ رَبُّكَ الْاَكْرَم، الَّذِیْ عَلَّمَ بِالْقَلَم،  عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْ.

‎(سورة العلق)

‎:وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلم

  مَنْ يُرِدِ الله بِهِ خَيْراً يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ

‎*শের:

‎علمِ دین جو نہ ہو تو بندگی کھو جاتی ہے

‎عبادت رسم بنے، روح کہیں سو جاتی ہے

‎বাংলা উচ্চারণ:

‎ইল্‌মে দীন জো না হো তো বন্দেগি খো জাতি হ্যায়,

‎ইবাদত রসম বানে, রূহ কাহিঁ সো জাতি হ্যায়।

‎অর্থ:

‎ইলমে দ্বীন না থাকলে আল্লাহর দাসত্ব হারিয়ে যায়,

‎ইবাদত শুধু রীতিতে রূপ নেয়, আত্মা নিদ্রায় চলে যায়।

‎☸ ভূমিকা: 

‎মুহতারাম হাযেরীন!

‎মানুষ দুনিয়াতে সম্মানিত এবং মর্যাদাবান হতে চায়। আর সম্মান এবং মর্যাদা আসে দু’ কারণে। 

‎এক নাম্বার হলো সম্পদ এবং টাকা-পয়সার কারণে। 

‎দুই নাম্বার হলো ইলম এবং জ্ঞানের কারণে।

‎তবে টাকা পয়সার কারণে যে সম্মান আসে সেটা বেশি দিন থাকে না,  যতদিন টাকা-পয়সা আছে ততদিন সম্মান আছে, টাকা-পয়সা শেষ সম্মানও শেষ। 

‎অপর দিকে ইলম এবং জ্ঞানের কারণে যে সম্মান আসে সেটা কখনও শেষ হয় না। 

‎➡ হযরত আলী (রাঃ) বলেন

‎العلمُ خيرٌ مِن المالِ، العلمُ يحرُسُكَ، وأنتَ تحرُسُ المال، المالُ يُنقِصُه النفقةُ، والعلمُ يزكو على الإنفاقِ، ‘

‎সম্পদের চেয়ে জ্ঞান উত্তম। জ্ঞান আপনাকে রক্ষা করে আর আপনি সম্পদকে রক্ষা করেন। অর্থ ব্যয় করলে কমে যায় আর জ্ঞান ব্যয় করলে বৃদ্ধি পায়’।

‎➡ “ইলম হলো একটি অমূল্য রত্ন” তাই তো হযরত আলী রা. গর্ব করে বলতেন।

‎رَضِينَا قِسْمَةَ الْجَبَّارِ فِينَا

‎لَنَا عِلْمٌ وَلِلْأَعْدَاءِ مَالٌ

‎فَإِنَّ الْمَالَ يَفْنَىٰ عَنْ قَرِيبٍ

‎وَإِنَّ الْعِلْمَ يَبْقَىٰ لَا يَزَالُ

‎অর্থ: আমরা আল্লাহ্ তাআলার বন্টনে সন্তুষ্ট হয়েছি, তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন ইলমে ওহী আর আমাদের শত্রু (রুম পারস্যকে) দিয়েছেন ধন সম্পদ

‎নিশ্চয় এই ধন সম্পদ একদিন ধংস হয়ে যাবে, কিন্তু ইলম এটা সব সময় অমর হয়ে থাকবে। এটা কখনও ধ্বংস হবে না।

‎★ মুহতারাম হাযেরীন! 

‎ধন সম্পদ  আল্লাহ্ তাআলার নেয়ামত। ইলম এটাও আল্লাহ্ তাআলার নিয়ামত। তবে ধনসম্পদের চেয়ে ইলম হলো অনেক উত্তম নেয়ামত। কারণ ধনসম্পদ দিয়েছেন আল্লাহ্ তায়ালা ফেরআউনকে, নমরুদকে, কারুনকে।

আর ইলম দিয়েছেন আল্লাহ্ তায়ালা সম্মানিত নবী রাসূলগনকে। আর যে নেয়ামত আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগনকে দিয়েছেন তা অবশ্যই পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও মূল্যবান নেয়ামত। তাই  আজকের জুমায় আপনাদের সম্মুখে "ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার গুরুত্ব ও ফজিলত" সম্পর্কে আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ।

‎وماتوفیقی إلا بالله 

‎☸ ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার গুরুত্ব।

‎ ইসলামে ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলমানদের প্রতি ইসলামের প্রথম বার্তাই হচ্ছে - اِقْرَاْ- পড়, 

‎ইলম অর্জন কর। ইসলাম থেকে ইলমকে আলাদা করা অসম্ভব। ইসলামের প্রতিটি অংশের মধ্যেই ইলম বিরাজমান। ইলম ছাড়া যথাযথভাবে ইসলাম পালন সম্ভব নয়। ইলম ছাড়া ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন- কোনো ক্ষেত্রেই সত্যিকার অর্থে ইসলাম পালন সম্ভব নয়। 

‎➡ তাবেঈ উমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহ. বলেনঃ

‎مَنْ عَمِلَ عَلَىٰ غَيْرِ عِلْمٍ كَانَ مَا يُفْسِدُ أَكْثَرَ مِمَّا يُصْلِحُ۔

‎ যে ব্যক্তি ইলম ছাড়া আমল করবে সে  সঠিকভাবে যতটুকু না করবে , বরবাদ করবে তার চেয়ে বেশি। (তারীখে তাবারী ৬/৫৭২)

‎★ দ্বীনী ইলমের বিভিন্ন স্তর ও ভাগ রয়েছে। 

‎একটি ভাগ হলো ফরযে আইন । 

‎ফরযে আইন বলা হয়, যা শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। বিশেষভাবে এই প্রকারের ইলমের ব্যাপারেই হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

‎طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ.

‎ প্রত্যেক মুসলিমের উপর ইলম অর্জন করা ফরয। ( সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২২৪)

‎ঈমান-আকীদা, ইবাদাত-বন্দেগী, মুআমালাত-মুআশারাতসহ ইসলামের বড় বড় সকল অধ্যায়ের অনেক বিষয়ই এই প্রকারের ইলমের মধ্যে শামিল, যা সকলকেই শিখতে হবে। এই পরিমাণ ইলম শিখে নেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। আর অধীনস্তদেরকে শিক্ষা দেওয়াও জরুরি। এ পরিমাণ ইলম না শিখলে আল্লাহর কাছে অন্যকে দায়ী করা যাবে না এবং কোনো ওজরও গ্রহণযোগ্য হবে না।

‎দ্বিতীয় ভাগ হলো ফরযে কেফায়া।

‎ফরযে কেফায়া বলা হয়, যা স্বতন্ত্রভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরয না হলেও সামষ্টিকভাবে সকলের উপর ফরয। অর্থাৎ সমাজের কিছু ব্যক্তি তা হাসিল করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। আর কেউই হাসিল না করলে সকলেই দায়ী থাকবে। এ প্রকারের ইলম অনেক বিস্তৃত। এককথায় দ্বীনের সকল বিষয়ের গভীর জ্ঞান। যেহেতু এটি সামষ্টিকভাবে সকলের উপরই ফরয তাই সকলকেই এই দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন থাকা চাই। কেউ যেন মনে না করে, এটি কেবল অমুক শ্রেণির দায়িত্ব। 

‎➡ এই ইলমের ব্যাপারেই হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছেঃ

‎يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ، يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ، وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ.

‎এই ইলমকে ধারণ করবে প্রত্যেক প্রজন্মের আস্থাভাজন শ্রেণি। তাঁরা একে মুক্ত রাখবে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি থেকে, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার থেকে এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে। (শরহু মুশকিলিল আছার, হাদীস, ৩৮৮৪; শারাফু আসহাবিল হাদীস, খতীব বাগদাদী, পৃ. ২৯; বুগইয়াতুল মুলতামিস, আলাঈ, পৃ. ৩৪)

‎💠কুরআন-সুন্নাহ্য় ইলম হাসিল করার ব্যাপারে আরো অনেক গুরুত্বারোপ রয়েছে। যেমন:

‎পবিত্র কুরআনের পুরোটাই হলো ইলম। কুরআন শিক্ষা করা, শিক্ষা দেওয়া, কুরআনের তালীম দেওয়া সবকিছুই ইলম চর্চার মধ্যে শামিল। কুরআনকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে যত জায়গায় বলা হয়েছে তার মধ্যে কুরআনের ইলম অর্জন করার বিষয়টি আবশ্যকীয়ভাবেই অন্তর্ভুক্ত। কুরআনের ইলম অর্জনের গুরুত্ব কুরআনের মতই। কারণ আল্লাহ পাক কুরআন নাযিল করেছেন, যাতে আমরা এর ইলম অর্জন করি এবং সেই অনুযায়ী আমল করি। 

‎➡ কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেছেনঃ

‎وَ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الذِّكْرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ اِلَیْهِمْ وَ لَعَلَّهُمْ یَتَفَكَّرُوْنَ.

‎ আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি, মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাতে তারা চিন্তা করে। (সূরা নাহল :আয়াত ৪৪)

‎➡ অন্যত্র ইরশাদ হয়েছেঃ

‎هُوَ الَّذِیْ بَعَثَ فِی الْاُمِّیّٖنَ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیْهِمْ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ.

‎তিনিই উম্মিদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে; তাদের পবিত্র করবে এবং শিক্ষা দিবে কিতাব ও হিকমত; ইতিপূর্বে তো তারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে। 

‎(সূরা জুমুআহ :আয়াত ২)

‎সুতরাং আমরা যদি চাই, যে উদ্দেশ্যে কুরআন নাযিল ও নবী প্রেরণ করা হয়েছে তা পুরা হোক, তাহলে আমাদের উচিত হবে কুরআন-সুন্নাহর ইলম হাসিল করা। যাতে হাশরের ময়দানে নবী সাঃ আমাদের বিরূদ্ধে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করে না বলেনঃ

‎یَا رَبِّ اِنَّ قَوْمِی اتَّخَذُوْا هٰذَا الْقُرْاٰنَ مَهْجُوْرًا

‎হে আমার প্রতিপালক, আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে বিলকুল পরিত্যাগ করেছিল। 

‎(সূরা ফুরকান : আয়াত ৩০)

‎সূরা কাহাফে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আ. ও হযরত খাযির আ.-এর ঘটনা উল্লেখ করে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, একজন অনেক উঁচু মর্যাদার নবীও ইলম ও হিকমত শিক্ষার জন্য অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন এবং আরেকজনের পিছে পিছে ঘুরেছেন। 

‎➡ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে হযরত মূসা আ. খাযির আ.-কে বললেন

‎هَلْ اَتَّبِعُكَ عَلٰۤی اَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا.

‎আমি কি আপনার অনুসরণ করব এই মর্মে যে, আপনি আমাকে হেদায়েতের বাণী শেখাবেন, যা আপনাকে শেখানো হয়েছে।

‎ (সূরা কাহাফ : আয়াত৬৬)

‎হযরত মূসা ও খাযির আ.-এর ঘটনা সবিস্তারে কুরআনে কারিমে সূরা কাহাফের শেষে উল্লেখ আছে। সেখানে একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য বহু শিক্ষা বিদ্যমান রয়েছে।

‎কুরআনে কারীমের এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে দুআ শিখিয়েছেন

‎رَبِّ زِدْنِیْ عِلْمًا.

‎হে আমার প্রভু, আমার ইলম বৃদ্ধি করে দেন।

‎ (সূরা ত্ব-হা:আয়াত ১১৪)

‎➡ আল্লামা কুরতুবী রাহ. বলেন, 

‎ইলমের চেয়ে অন্য কোনো আমল যদি আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় হতো তবে তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেটা বৃদ্ধির জন্যই দুআ করতে নির্দেশ দিতেন। কুরআনে কারিমে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইলম ছাড়া অন্য কোনো জিনিস বৃদ্ধির জন্য দুআ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

‎➡ অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ

‎وَ مَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِیَنْفِرُوْا كَآفَّةً فَلَوْ لَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآىِٕفَةٌ لِّیَتَفَقَّهُوْا فِی الدِّیْنِ وَ لِیُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ اِذَا رَجَعُوْۤا اِلَیْهِمْ لَعَلَّهُمْ یَحْذَرُوْنَ.

‎মুমিনদের সকলের একসঙ্গে অভিযানে বের হওয়া সঙ্গত নয়, তাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ বহির্গত হয় না কেন, যাতে তারা দ্বীন সম্বন্ধে জ্ঞানানুশীলন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে। যাতে তারা সতর্ক হয়। 

‎(সূরা তাওবা : আয়াত ১২২)

‎➡ প্রখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা কুরতুবী রাহ. বলেনঃ

‎ কুরআনের এই আয়াতটি ইলম অন্বেষণ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একটি বড় দলীল। তিনি আরো বলেন, ইলম অন্বেষণ করা এমন মহা সম্মান ও মর্যাদার বিষয়, অন্য কোনো আমল যার সমকক্ষ হতে পারে না।

‎ (তাফসীরে কুরতুবী ৮/২৬৬, ২৬৮)

‎নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনী অধ্যয়ন করলে স্পষ্টভাবেই বুঝে আসে, তিনি ইলমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয এবং বিরাট সওয়াবের কাজ হিসেবেই অবলম্বন করেছিলেন, এবং এভাবে অবলম্বনের জন্যই উম্মতকে জোর তাকিদ করেছেন। ইলমের প্রতি এত উৎসাহ দিয়েছেন এবং এত অধিক ফযীলত বর্ণনা করেছেন যে, বৃদ্ধদের মাঝেও ইলম তলবের অদম্য স্পৃহা জেগে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, ইলমের প্রতি অনীহা প্রকাশকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

‎☸ ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার ফজিলত।

‎এব্যাপারে কুরআনে আল্লাহ তাআলা অনেক আয়াত নাযিল করেছেন।

‎➡ (১) ইলমের কারণে আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ)-কে ফেরেশতাদের উপরে মর্যাদা দিয়েছেন : 

‎ মহান আল্লাহ বলেনঃ

‎وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ، قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيْمُ-

‎ ‘আর আল্লাহ তাআলা আদমকে সকল বস্ত্তর নাম শিক্ষা দিলেন। অতঃপর সেগুলিকে ফেরেশতাদের সম্মুখে পেশ করলেন এবং বললেন, তোমরা আমাকে এগুলির নাম বল, যদি তোমরা (তোমাদের কথায়) সত্যবাদী হও। তারা বলল, সকল পবিত্রতা আপনার জন্য। আমাদের কোন জ্ঞান নেই, যতটুকু আপনি আমাদের শিখিয়েছেন ততটুকু ব্যতীত। নিশ্চয় আপনি মহা বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।

‎(বাক্বারাহঃ আয়াত৩১-৩২)

‎অতঃপর তিনি আদমকে বললেন, ‘হে আদম! তুমি এদেরকে ঐসবের নামগুলি বলে দাও। অতঃপর যখন আদম তাদেরকে ঐসবের নামগুলি বলে দিল, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আসমান ও যমীনের অদৃশ্য বিষয় সমূহ আমি সর্বাধিক অবগত এবং তোমরা যেসব বিষয় প্রকাশ কর ও যেসব বিষয় গোপন কর, সকল বিষয়ে আমি সম্যক অবহিত?

‎ (বাক্বারাহঃ আয়াত ৩৩) 

‎এরপর আল্লাহ আদমকে সম্মানসূচক সিজদা করার জন্য ফেরেশতাদের আদেশ দিলেন।

‎➡ (২) সর্বপ্রথম কুরআনী ওহীতেই ইলমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছেঃ

‎اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِیْ خَلَقَ، خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَق ، اِقْرَاْ وَ رَبُّكَ الْاَكْرَم، الَّذِیْ عَلَّمَ بِالْقَلَم،  عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْ.

‎পড়ুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন- সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে। পড়ুন, আর আপনার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে, যা সে জানত না।

‎ (সূরা আলাক: আয়াত ১-৫)

‎➡ (৩) অপর এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-

‎قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الَّذِیْنَ یَعْلَمُوْنَ وَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ.

‎বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?। (সূরা যুমার : আয়াত ৯)

‎➡ (৪) কুরআনে কারিমের অন্যত্র ইরশাদ হয়েছেঃ

‎یَرْفَعِ اللهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْكُمْ  وَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ دَرَجٰتٍ.

‎তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে  মর্যাদায় উন্নত  করবেন। 

‎(সূরা মুজাদালাহ: আয়াত ১১)

‎★ অসংখ্য হাদীসেও ইলমের ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।


‎➡ (১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ

‎مَنْ يُرِدِ الله بِهِ خَيْراً يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ.

‎আল্লাহ পাক যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের সহীহ সমঝ দান করেন।

‎ (সহীহ বুখারী, হাদীস ৭১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৩৭)

‎➡ (২) আরো ইরশাদ করেছেনঃ

‎لاَ حَسَدَ إِلّا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالًا فَسُلِّطَ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ الحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا.

‎দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো ব্যাপারেই হিংসা হতে পারে না। এক. আল্লাহ পাক যাকে সম্পদ দান করেছেন আর সে ন্যায়ের পথে খরচ করতে থাকে। দুই. যাকে দ্বীনী জ্ঞান দান করেছেন আর সে তা দিয়ে বিচার করে এবং তা মানুষকে শেখায়। 

‎(সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮১৬)

‎➡ (৩)অন্য হাদীসে ইরশাদ করেছেনঃ

‎مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا، سَهّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنّةِ.

‎যেই ব্যক্তি ইলম তলবের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করবে আল্লাহ পাক এর বদৌলতে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন।

‎ (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৯৯)

‎➡ (৪) হযরত সাফওয়ান  রা. বলেনঃ

‎ আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম। তখন তিনি মসজিদে বসে ছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি এসেছি ইলম শিক্ষা করার জন্য। তিনি বললেন, তালেবে ইলমকে মারহাবা। নিশ্চয় তালেবে ইলমকে ফিরিশতাগণ বেষ্টন করে রাখে এবং তাঁদের ডানা দিয়ে তাকে ছাঁয়া দিতে থাকে। অতঃপর তাঁরা সারিবদ্ধভাবে প্রথম আসমান পর্যন্ত মিলে মিলে দাঁড়িয়ে যায়। এসব কিছু তাঁরা তালিবুল ইলম যা অন্বেষণ করছে তার ভালবাসায় করে।

‎ (আখলাকুল উলামা, আর্জুরী ১/৩৭; তবারানী কাবীর, হাদীস ৭৩৪৭; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ৫৫০)

‎➡ (৫) হাদীস শরীফে ইলম অন্বেষণের রাস্তাকেও আল্লাহর রাস্তা বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছেঃ

‎مَنْ خَرَجَ فِي طَلَبِ العِلْمِ فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ حَتَّى يَرْجِعَ.

‎ যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের জন্য বের হল সে আল্লাহর রাস্তায় বের হল।

‎ (জামে তিরিমিযী, হাদীস ২৬৪৭)

‎➡ (৬) অন্য বর্ণনায় এভাবে এসেছেঃ

‎مَنْ جَاءَ مَسْجِدِي هَذَا، لَمْ يَأْتِهِ إِلّا لِخَيْرٍ يَتَعَلّمُهُ أَوْ يُعَلِّمُهُ، فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ.

‎ যেই ব্যক্তি আমার মসজিদে আসল শুধু একারণে যে, সে কোনো কল্যাণের বাণী শিখবে অথবা শেখাবে সেই ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর ন্যায়।

‎ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২২৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৪১৯)

‎➡ (৭) অপর এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছেঃ

‎إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ.

‎ যখন মানুষ মারা যায় তার সকল আমলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটি রাস্তা খোলা থাকে। এক. ছদকায়ে জারিয়া। দুই. এমন ইলম, যা থেকে (মানুষ) উপকৃত হয়। তিন. নেক সন্তান, যে তার জন্য দুআ করে।

‎ (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩১)

‎➡ (৮) আরো ইরশাদ হয়েছেঃ

‎خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ

‎তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যে কুরআন মাজীদ শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।

‎ (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০২৭)

‎➡ (৯) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু জর রা.-কে সম্বোধন করে বলেছেনঃ

‎ হে আবু জর, কুরআনের একটি আয়াত শিক্ষা করা তোমার জন্য একশ রাকাত নফল নামায পড়ার চেয়েও উত্তম। ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা করা তোমার জন্য এক হাজার রাকাত নফল নামায পড়ার চেয়েও উত্তম। চাই এর উপর আমল করা হোক বা না হোক। 

‎(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ২১৯)

‎➡ (১০) অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছেঃ

‎إِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ، وَمَنْ فِي الْأَرْضِ، وَالْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ ،

‎যারা ইলম অন্বেষন করে তাদের জন্য গর্তের পিপিলিকা থেকে নিয়ে সমুদ্রের মৎস পর্যন্ত মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকে। 

‎(জামে‘উত-তিরমিযী, হাদীস নম্বর: ২৬৮৫)

‎★  ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা সংক্রান্ত একটি শিক্ষনীয় ঘটনা:


‎একদা  একজন ‘তালিবুল ইলম’ দীর্ঘদিন তার উস্তাদের কাছে ইলম অর্জন করার পর যখন বিদায় নিয়ে দেশে চলে যাচ্ছিল তখন উস্তাদ ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি আমার কাছে ৩৩ বছর অবস্থান করেছ”  “এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তুমি আমার কাছ থেকে কতটুকু উপকৃত হয়েছো?” ছাত্রটি বলল, “আমি আপনার নিকট থেকে মাত্র ছয়টি বিষয় শিখেছি।” উস্তাদ বললেন, “এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তুমি মাত্র ছয়টি বিষয় শিখেছো? ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউ’ন। তোমার মধ্যে কী আল্লাহর ভয় বলতে কিছু নেই?” ছাত্র বলল, “আমি সত্য বলছি, মিথ্যা নয়।” উস্তাদ এবার বললেন, “আচ্ছা তাহলে বলো, কী সেই ছয়টি বিষয়?” এবার ছাত্রটি বলতে লাগলঃ

‎(১) আমি দেখলাম দুনিয়ার মানুষের মধ্যে শুধু হিংসা আর হিংসা। একজন আরেকজনের সাথে হিংসা করে। কেউ কাউকে ভালবাসেনা। আর আমি যখন আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলাম,

‎وَنَزَعۡنَا مَا فِی صُدُورِهِم مِّنۡ غِلٍّ إِخۡوَ ٰ⁠نًا عَلَىٰ سُرُرࣲ مُّتَقَـٰبِلِینَ

‎“আমি জান্নাতীদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ ও মনোমালিন্য সম্পূর্ণরূপে বের করে দেবো, তারা পরস্পর ভাই ভাইয়ে পরিণত হয়ে মুখোমুখি আসনে (আরাম করে) বসবে।” সুরা হিজরঃ ৪৭।

‎তখন দুনিয়ার সুখ-সামগ্রী বর্জন করে আমি জান্নাত যাওয়াকেই প্রাধান্য দিলাম।

‎ উস্তাদ তখন জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন আমলের বিনিময়ে জান্নাতে যেতে চাও? 

‎ছাত্র বললঃ আমি আল্লাহ তাআ’লার এই বাণী পাঠ করেছি, وَلِمَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ جَنَّتَانِ

‎“আর যারা তাদের রবের সামনে হাজির হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে তাদের প্রত্যেকের জন্যে (পুরষ্কার হিসেবে) দুইটি করে জান্নাত রয়েছে৷” সুরা আর-রাহমানঃ ৪৬।

‎আল্লাহ তাআ’লা আরো বলেছেন, 

‎وَأَمَّا مَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفۡسَ عَنِ ٱلۡهَوَىٰ

‎فَإِنَّ ٱلۡجَنَّةَ هِیَ ٱلۡمَأۡوَىٰ

‎“আর যে ব্যক্তি নিজের রবের সামনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীত হলো এবং নিজের নফসকে খারাপ কামনা থেকে বিরত রাখলো, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।” সুরা নাযিয়াতঃ ৪০-৪১।

‎সুতরাং, আমি আল্লাহকে ভয় করি। সেই সাথে জান্নাতের আশা নিয়ে আল্লাহর ভয়েই আমি নেক আমল করি। আর আমি আমার নফস থেকে খারাপ চিন্তা ও কুপ্রবৃত্তি বের করে ফেলেছি এবং নফসকে একদম সোজা করে ফেলেছি।

‎(২) আমি দেখলাম দুনিয়ার প্রত্যেকেই একজন করে খাস বন্ধু গ্রহণ করে। আমিও একজন বন্ধু খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু দেখলাম, সেই বন্ধুও এক সময় আলাদা হয়ে যাবে। কারণ মৃত্যুর সময় কারো বন্ধুই সাথে যায়না। একমাত্র তার আমলই সাথে যায়। তাই আমি দুনিয়ার কোন মানুষকে বন্ধু না বানিয়ে, শুধুমাত্র আখেরাতের জন্যে নেক আমলকেই বন্ধু বানালাম। উস্তাদ বললেন, “তুমি খুব ভাল করেছ।”

‎(৩) আমি দুনিয়ার মানুষের মধ্যে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম, তাদের প্রত্যেকেরই এমন কিছু জিনিষ আছে, যা সে লুকিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমি দেখলাম, সেই লুকায়িত জিনিসটিও কখনো দুনিয়ার চোর-ডাকাতেরা নিয়ে চলে যায়। তাই আমি যখন দেখলাম, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নেক আমল করে, সেই আমল কখনো নষ্ট হয়না, কোন চোর-ডাকাত তা চুরি করতে পারেনা। আল্লাহ তাআ’লা তার বিনিময় পুরাপুরি দান করেন। তাই আল্লাহর জন্য আমল করাকেই সর্বাধিক প্রিয় মনে করলাম।

‎(৪) আমি যখন দেখলাম দুনিয়ার মানুষেরা রিযিকের জন্য মারামারি, কাটাকাটি করছে এবং পরস্পর হিংসা করছে। তখন আমি আল্লাহর এই বাণী পেলাম, 

‎أَهُمۡ یَقۡسِمُونَ رَحۡمَتَ رَبِّكَۚ نَحۡنُ قَسَمۡنَا بَیۡنَهُم مَّعِیشَتَهُمۡ فِی ٱلۡحَیَوٰةِ ٱلدُّنۡیَاۚ وَرَفَعۡنَا بَعۡضَهُمۡ فَوۡقَ بَعۡضࣲ دَرَجَـٰتࣲ 

‎“তারা কি তোমার রবের রহমত (রিযিক) বণ্টন করে? দুনিয়ার জীবনে এদের মধ্যে জীবন যাপনের উপায় উপকরণ আমি বণ্টন করে দিয়েছি এবং এদের মধ্য থেকে কিছু লোককে অপর কিছু লোকের উপর অনেক বেশী মর্যাদা দিয়েছি।” সুরা যুখরুফঃ ৩২। 

‎তখন থেকে রিযিকের জন্য বেশি হাহুতাশ করা এবং দুঃশ্চিন্তা করা সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিয়েছি।

‎(৫) আমি যখন দেখলাম, দুনিয়ার মানুষেরা পরস্পরকে শত্রু মনে করে এবং তাদের কেউ অন্য কাউকে দেখতে পারেনা, তখন আমি আল্লাহ তাআলার এই বাণী পাঠ করলাম, 

‎إِنَّ ٱلشَّیۡطَـٰنَ لَكُمۡ عَدُوࣱّ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّاۚ إِنَّمَا یَدۡعُوا۟ حِزۡبَهُۥ لِیَكُونُوا۟ مِنۡ أَصۡحَـٰبِ ٱلسَّعِیرِ

‎“আসলে শয়তান তোমাদের শত্রু, তাই তোমরাও তাকে নিজেদের শত্রু মনে করো। সেতো নিজের অনুসারীদেরকে নিজের পথে এজন্য ডাকছে, যাতে তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।” 

‎(সুরা ফাতিরঃ ৬)

‎আল্লাহর এই বাণী উপলব্ধি করার পর আমি মানুষের সাথে শত্রুতা পোষণ করা বাদ দিয়ে কেবল শয়তানকেই আমার একমাত্র শত্রু বলে মনে করলাম।

‎(৬) আমি যখন দেখলাম দুনিয়ার মানুষেরা টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি,  ও অন্যান্য সম্পদের উপর নির্ভর করে এবং দুনিয়ার বিপদ-আপদকে ভয় করে। তখন আমি  কুরআনের এই আয়াত দেখলাম, 

‎ مَن كَانَ یُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلۡیَوۡمِ ٱلۡـَٔاخِرِۚ وَمَن یَتَّقِ ٱللَّهَ یَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجࣰا، وَیَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُۚ وَمَن یَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥۤۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَـٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ

‎“যে ব্যক্তিই আল্লাহকে ভয় করে চলবে আল্লাহ তার জন্য কঠিন অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন এবং এমন পন্থায় তাকে রিযিক দেবেন, যা সে কখনো কল্পনাও করতে পারে না৷ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ অবশ্যই তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করে থাকেন।” সুরা তালাকঃ ২-৩।

‎তখন আমি দুনিয়ার সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর উপরেই ভরসা করতে লাগলাম। তখন উস্তাদ বললেন, “সত্যিই তুমি অত্যন্ত উত্তম শিক্ষা গ্রহণ করেছ"। 

‎আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এভাবে ইলমের গুরুত্ব বুঝে  তা অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমিন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages