৫টি খারাপ অভ্যাস থাকলে অভাব দুর হবে না


 নিচের লিষ্টের ৫-৭ টা তোমার মধ্যে যদি থাকে, আজীবন টানাটানির মধ্যে চলতে হবে। চেক করে দেখো কয়টা আছে।


১. যারা রেগুলার বাইরে খায়, বাইরে যেতে না পারলে বাসায় ফুড ডেলিভারি নেয়:  (মাসে ২-৪ বার হলে তেমন সমস্যা না )


২. ছোটখাটো খরচকে “তেমন পাত্তা না দেয়া”  ও এইটা তো মাত্র ৫০ টাকা, এইখানে জাস্ট ২০০ টাকা, এইরকম ছোটখাটো খরচ প্রতিদিন ২-৩ টা হতে থাকলে, টাকা যে কোন দিক দিয়ে লিক হয়ে যাচ্ছে টেরই পাওয়া যায় না। 


৩. নিয়মিত দাওয়াত থাকলে: দাওয়াতের গিফট, যাওয়া আসার খরচ, দাওয়াতে যাওয়ার জন্য জামা কাপড়। মাস শেষে ভালো একটা অংশ চলে যায়। 

.

৪. ধার একবার নেয়া শুরু করলে দেখা যায় প্রতিমাসেই ধার লাগে। আর যে ধার দেয় সে বেচারা ধারের টাকা উঠতে না পেরে ডাবল বিপদে থাকে। 


৫. একবার ক্রেডিট কার্ড বা লোনের চক্করে পড়লে, এইটা থেকে বের হওয়া টাফ। 


৬. ধূমপান বা নেশা বা বাজে স্বভাব এমন পাবলিকরা বেশিরভাগই টানাটানির মধ্যে থাকে। আর বাজে নেশার মধ্যে পড়লেতো টাকা পয়সাও শেষ, জীবনও শেষ। 

.

৭. অনলাইন বা অফলাইনে যারাই জুয়ার সাথে জড়িয়ে গেছে, তারাই সব হারাইছে। পেটেভাতেও চলতে পারে না। 


৮. একবার দোকানে বাকি খাওয়া বা বাকি সদাই নেয়া শুরু করলে, সেই চক্কর থেকে দোকানদার এবং খরিদ্দার দুইজনেই বের হতে পারে না। 


৯. একবার বেতন পাওয়ার আগে কারো কাছ থেকে ধার নেয়া শুরু করলে বা খরচ করা শুরু করলে মাসের পর মাস এই সাইকেল থেকে মুক্তি নাই। তখন মাসের শেষ ২০ দিন যায় টাকার সাথে যুদ্ধ করে। 

.

১০. ফ্যামিলি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির জন্য আগে থেকে টাকা জোগাড় করে না রাখলে শেষ পর্যন্ত ঋণ নিতে হয়। সেই ঋণ শোধ করতে ২-৩ বছর টানাটানি চলতে থাকে। 


১১. বছরে দুই একটা ঘুরাঘুরি ঠিকাছে। কিন্তু যারা মাসে মাসে এইখানে না হয় ঐখানে যায়। তাদের হাতে ১০ টাকা জমলে ৫০ টাকার একটা ট্যুর দিয়ে ফেলে। এদের জীবন পেটেভাতে আর রাস্তাঘাটেই চলতে থাকবে। 


১২.বিয়ে, বাড়ি করা, দেশের বাইরে যাবে এইসব ফিউচারের মেগা ইভেন্টের জন্য যত বাজেট করবে, জীবনেও সেই বাজেটে শেষ হবে না। তাই এইগুলার জন্য বাজেট যত তার দ্বিগুণ সেইভ না করলে, বিপদে পড়বে। 

.

১৩. বাজারের লিস্ট স্ট্রিক্ট না থাকা বা উইন্ডো শপিং। কেউ কেউ আছে, কিনতে যায় একটা জিনিস, কিনে আসে তিনটা। বা দোকানদার আরেকটু ভালো, আরেকটু লোভনীয় জিনিস দেখিয়ে বাজেটের বাইরের জিনিস খসায় দেয়। আর তোমার পকেট খালি হয়ে যায়। 


১৪. একবার অনলাইনে কেনার অভ্যাস শুরু করে দিলে দেখা যায়, হুদাই জিনিস কিনে। দরকারের চাইতে, অল্প দরকারি বা অদরকারি জিনিস কিনে। 

.

১৫. ডিস্কাউন্টে জিনিস কেনা মানে, জিনিস কেনা না। ফেইক একটা ডিসকাউন্ট কেনা। অর্থাৎ তুমি কখনোই ২০-৩০% ডিসকাউন্ট পাও না। বরং ৭০-৮০% টাকা বিনা কারণে খসাও। সো, ব্যাপার হবে-- আমার জিনিস একান্তই কেনা লাগলে কিনবো-- তখন কূপন পাইলে ইউজ করবো না পাইলে ফুল প্রাইসে কিনবো। এতে সাময়িক খরচ একটু বেশি হলেও ওভারঅল খরচ অনেক কম হবে। 


১৬. ফ্রী ট্রায়াল, মাসিক সাবস্ক্রিপশন একটা ট্র্যাপ। মানুষের আলসেমি ও ভুলে যাওয়ার কারণে হুদাই হুদাই টাকা গচ্ছা যেতে থাকে। 


১৭. বেশিরভাগ সময় ব্র্যান্ডের জিনিস এর চাইতে ভালো জিনিস বা কাছাকাছি কোয়ালিটির জিনিস অনেক কম দামে পাওয়া যায়। আমি সস্তায় খারাপ জিনিস কেনার কথা বলতেছি না। বরং সিমিলার কোয়ালিটির কম ব্র্যান্ড বা নন-ব্রান্ডের জিনিসের কথা বলছি। 


১৮. অন্যদের চাইতে নিজেকে বড় দেখানোর জন্য টাকা খরচ করা মধ্যবিত্তদের জন্য বোকামি। বড়লোক যাদের অসীম টাকা আছে তাদের হিসাব আলাদা। 

.


১৯. একটা ফোন ভালোই চলতেছে হুদাই হুদাই আপগ্রেড করা। হয়তো দুইটা ফিচার একটু কম ভালো সেটার জন্য ঝাঁপ দিয়ে, টাকা জোগাড় করে কিনে ফেলা। 


২০. রিফান্ড, বোনাস বা ক্যাশব্যাককে “ফ্রি টাকা” মনে করা। 


২১. মাসিক খরচ ট্র্যাক না করা বা অপটিমাইজ না করা

.

২২. ইনকামের মিনিমাম ২০% আর সম্ভব হলে ৩০–৫০% সেভ না করা


২৩. বেতন বাড়ালেই আর টাকা পয়সার টানাটানি থাকবে না, মনে করা। 

২৪. পেটেভাতে চলতে পারাও কিন্তু  পেটেভাতে চলতে না পারার চাইতে ভালো। সেটা নিয়ে শুকরিয়া না করা। 

২৫. ইনকাম বাড়ানোর চাইতে খরচ কমানের দিকে বেশি ফোকাস করা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url